হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের নিবন্ধিত কাজী ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কাজী আ. কাইয়ুমের বিরুদ্ধে জমি দখল, অতিরিক্ত কাবিন ফি আদায় ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্তে সরকারি খেলার মাঠ, পুকুর ও কবরস্থান দখলের হীন চেষ্টা, অননুমোদিতভাবে অন্য ইউনিয়নে গিয়ে কাবিন সম্পাদন, এবং কৌশলে সরকারি সাহায্য নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠে এসেছে। এছাড়া, তিনি ও তাঁর ভাতিজা জুনায়েদুল ইসলাম — যিনি নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা বলে পরিচয় দেন — যৌথভাবে সরকারি জমি ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 🖋️ প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী: দুর্বার অনুসন্ধান ডেস্ক
দৈনিক দুর্বার | অনুসন্ধান প্রতিবেদন

সরকারি মাঠ ও পুকুর দখলের অভিযোগ : রাজিউড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে (তারিখঃ ০৫.০১.২০২৩) উল্লেখ করা হয়, আব্দুর রহিমপুর চক মৌজায় ১নং খাস খতিয়ানের আওতায় থাকা ২.৯৭ একর খাল শ্রেণির জমি—যেখানে খেলার মাঠ, গাছপালা, পুকুর ও কবরস্থান রয়েছে—সেটি প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি মাটি ভরাট করে দখলের চেষ্টা করছেন। তারা নিজেদের জমির সঙ্গে সরকারি জমিকে একত্র করে দখল করছেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
অতিরিক্ত কাবিন ফি আদায় ও অননুমোদিত কার্যক্রম : অভিযোগ রয়েছে, কাজী আ. কাইয়ুম সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে বিয়ের কাবিন সম্পাদন করেন। শুধু তাই নয়, নিজ ইউনিয়নের বাইরে গিয়ে অনুমোদন ছাড়া কাবিন সম্পাদন করে অন্য কাজীদের ক্ষতিও করছেন তিনি।
জনমতের প্রতিফলন: স্থানীয়দের ভাষ্যে, “একজন ধর্মীয় দায়িত্বে থাকা কাজী যখন এমন অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তখন সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায়। সরকারি জমি দখল, অতিরিক্ত ফি নেওয়া—এসব আমাদের ইউনিয়নের মর্যাদাকে নষ্ট করছে।”
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও প্রশ্ন : ভূমি অফিস থেকে প্রতিবেদন পাঠানো হলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন—“তাহলে কি প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হাত বাঁধা?”
📞 তথ্য পাঠাতে চাইলে: news@dailydurbar.com