
টানা তিন বছরের অব্যাহত হামলা ও গণহত্যার পর গাজা উপত্যকা এখন এক অচেনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি গুগল ম্যাপস (Google Maps) ও জাতিসংঘের উপগ্রহ কেন্দ্রের (UNOSAT) স্যাটেলাইট চিত্রে ফুটে উঠেছে অঞ্চলটির সেই ভয়াবহ ও নারকীয় দৃশ্য।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, পুরো গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ পরিকাঠামো (প্রায় ২ লাখ ভবন) ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংসের তীব্রতা ফুটে উঠেছে উত্তর গাজা থেকে রাফাহ পর্যন্ত:
রাফাহ ও আল-মাওয়াসি: রাফাহর তাল আস-সুলতান এলাকার ঘনবসতি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আর আল-মাওয়াসির কৃষিজমিতে এখন কেবল বাস্তুচ্যুতদের প্লাস্টিকের তাঁবুর ভিড়।
খান ইউনিস: কৃষি ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র খান ইউনিসে ৫০ হাজারের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ইন্দোনেশিয়ান ইস্তিকলাল মসজিদ।
গাজা সিটি ও জাবালিয়া: গাজা সিটির ঐতিহাসিক বন্দর এবং উত্তরের জাবালিয়া শরণার্থী শিবির মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতির পরও ধ্বংসযজ্ঞ পুরোপুরি থামেনি, বরং বিধ্বস্ত ভবনের সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা নিখোঁজদের গণনায় আনলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।