ঢাকা: রাজধানী ঢাকার সংসদ ভবনের বিপরীত দিকে অবস্থিত ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ। ঘটনার সময় তাঁর কক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিরকুটগুলোতে প্রতারিত হওয়া, বিশ্বাসভঙ্গ এবং মানসিক যন্ত্রণার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুল করিম জানান, মরিয়ম যে রুমে থাকতেন সেখান থেকেই চিরকুটগুলো উদ্ধার করা হয়। রবিবার সন্ধ্যার এ ঘটনার পর রাতেই এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরবর্তীতে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে নজরুল, মাকছুদা এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
চিরকুটে যা লেখা ছিল: পুলিশের উদ্ধার করা চিরকুটগুলোতে মরিয়মের আবেগ ও কষ্টের নানা কথা লেখা রয়েছে।
একটি চিরকুটে লেখা ছিল: “শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…।”
অন্য একটি চিরকুটে তিনি লেখেন: “আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমি তো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো।”
আরেকটি লেখায় নিজের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন: “সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর…!!! আর আমি ছিলাম বোকা…!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!!”
ভালোবাসার সংজ্ঞা টেনে তিনি আরও লেখেন: “কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়… ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!”
স্বজনদের বক্তব্য ও আকুতি: সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে মেয়ের লাশের জন্য অপেক্ষায় থাকা মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। তিনি জানান, মেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে নিজের মামা ওবায়দুরের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার কথা বলে কাঁদত। ওবায়দুরের কারণেই তাকে এমপি হোস্টেলে এসে থাকতে হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত এই পরিণতি ভোগ করতে হলো।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে মরিয়মের আপন খালু। পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতার মধ্যে চিরকুটগুলো সত্যিই মরিয়মের লেখা কি না—তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
দৈনিক দুর্বার