ঢাকা | বঙ্গাব্দ

২৬ বছর ধরে কাঁচা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার রাস্তা-কাঁদছে পূর্ব লেঞ্জাপাড়া-আলাপুরবাসী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 11, 2026 ইং
পূর্ব লেঞ্জাপাড়া-আলাপুরবাসী ছবির ক্যাপশন: পূর্ব লেঞ্জাপাড়া-আলাপুরবাসী
ad728

আশরাফুল ইসলাম, শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি:

কাগজে-কলমে ফার্স্ট ক্লাস পৌরসভা, কিন্তু বাস্তব চিত্র যেন একদমই উল্টো! প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পাওয়ার ২৬ বছর পার হলেও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লেঞ্জাপাড়া-আলাপুর এলাকার সড়কটির ভাগ্য বদলায়নি। দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি আজও পড়ে আছে সেই মাটির কাঁচা রাস্তা হিসেবেই। বর্ষা নামলেই এ যেন আর রাস্তা থাকে না, পরিণত হয় এক মরণফাঁদে!

সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান কাদা আর বড় বড় গর্তে থৈ থৈ করে পানি। ৫ হাজার মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত তখন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ভেজা পোশাক আর কাদা মেখে ক্লাসে যেতে হয়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে চিকিৎসার ক্ষেত্রে। কাদার কারণে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, কোনো যানবাহনই গ্রামে ঢুকতে পারে না। সম্প্রতি এক মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় তিনি পথেই মারা যান। পরে মরদেহও অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে আড়াই কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে খাটিয়ায় কাঁধে করে বাড়িতে পৌঁছাতে হয়। প্রসূতি মায়েদের কোলে বা কাঁধে চড়িয়ে মূল সড়কে নিয়ে যাওয়ার মতো করুণ দৃশ্যও এখানে নিত্যদিনের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানান, খামারের খাবার কিংবা ক্ষেতের ফসল হাটে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুণতে গিয়ে চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী নিজেদের চাঁদার টাকায় ইট-রাবিশ ফেলে রাস্তা সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বছরের পর বছর।

পৌরসভা থেকে জানানো হয়েছে, সড়ক সংস্কারে ১০ লাখ টাকার ইটসোলিং কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। তবে এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের স্পষ্ট কথা—নিচু এই রাস্তায় শুধু ইট বিছিয়ে জোড়াতালি দিলে কয়েক দিনেই তা কাদায় বিলীন হয়ে যাবে। পানির অবমুক্ত প্রবাহ ও টেকসই যোগাযোগের জন্য প্রথমে রাস্তাটি অন্তত ৩ হাত উঁচু করে মাটি ভরাট, দুই পাশে গাইড ওয়াল, প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ এবং সবশেষে ঢালাই দিয়ে পাকাকরণ করতে হবে।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামান জানান, “সড়কটির বেহাল দশার কথা আমরা জানি। ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকার ইটসোলিং টেন্ডারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দেড় কিলোমিটার এই সড়কটি এখন এলাকাবাসীর কাছে ক্ষোভ আর বৈষম্যের প্রতীক। সাময়িক কোনো তালি না মেরে অবিলম্বে একবারে দীর্ঘমেয়াদি মেগা পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক দুর্বার

কমেন্ট বক্স