জীবনের কোনো না কোনো সময়ে (বা অসময়ে) আপনার চেতন বা অবচেতন মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে– মানুষের মন কীভাবে কাজ করে? মানুষের মন ও দেহ কি একই জিনিস? নাকি দুটোর মাঝে ফারাক বিদ্যমান? মনকে কি শরীর প্রভাবিত করে বা করতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর বুঝতে নিউরোদর্শন সহায়ক হতে পারে।
রেনে দেকার্তের বিখ্যাত বাণী রয়েছে— ‘আমি চিন্তা করি, তাই আমি অস্তিত্বশীল’। একে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দর্শনে ‘মাইন্ড-বডি প্রবলেম’ বিষয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। সেসব আলোচনা ডালপালা গজিয়ে ছড়িয়েছে মানুষের দেহ, মন, চিন্তা, চৈতন্য কিংবা আত্মার আলাপে। সেগুলোকে একপাশে সরিয়ে আমরা যদি দেহ-মনের অনুভূতির ওপর কম্পাস ধরি, তাহলে দেখতে পাব– কাঁটাটি ইন্ডিকেট করছে মস্তিষ্ককে। আর মস্তিস্ক সংযুক্ত স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে।
মস্তিষ্কের ভেতর চলে বহুবিধ চিন্তার খেলা। সেই খেলার খেলোয়াড় অসংখ্য নিউরন। তারা কখনও সামনে এগোয়, কখনও পেছায়; কখনও বল পাস করার মতো এক নিউরন তথ্য পাস করে আরেক নিউরনকে। এভাবে এগোতে থাকে চিন্তার নির্মাণ বা বিনির্মাণের প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়া কখনও গোলের পূর্ণতা পায়, কখনোবা আছড়ে পড়ে গোলপোস্টের বাইরে।
‘নিউরোদর্শন’-এ মন ও মস্তিষ্কের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দর্শন ও মনোবিজ্ঞানের আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। লেখকের ভাষ্য, মানুষের মন কীভাবে পরিবেশ বা সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে নানা রূপ ধারণ করে এবং একই মন একই সময়ে কত ধরনের স্ববিরোধিতা নিয়ে যে হাজির হতে পারে, সেগুলো নিয়েই মূলত এই বই লেখা।