ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গরু কোরবানির দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের বিক্ষোভ, বিরোধিতায় আলেমরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 25, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র বিভাগ এক নির্দেশনায় জানায়, সরকারি অনুমতি ছাড়া গরু, ষাঁড়, বাছুর ও মহিষ জবাই করা যাবে না। জবাইয়ের আগে পৌরসভা চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত প্রধান এবং সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, শুধুমাত্র ১৪ বছরের বেশি বয়সী বা অক্ষম পশু জবাইয়ের অনুমতি পাবে। আইন অমান্যকারীদের জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসমি মুসলমানদের গরু কোরবানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমি মুসলিম ভাইদের বলব, গরু কোরবানি না দিতে। এমনকি গরুর মাংস খাওয়াও বন্ধ করা উচিত।”

হুগলির ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা জিয়াউদ্দিন সিদ্দিকিও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “হিন্দুরা গরুকে পূজা করে। আমরা ছাগল বা ভেড়া কোরবানি দিতে পারি।”

ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘আজ তক’-এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে কলকাতা হাইকোর্টের গরু কোরবানি বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন হিন্দু নারী-পুরুষরা। বিক্ষোভকারীরা বলেন, “কোরবানির যে প্রথা বন্ধ করা হয়েছে, সেটা আমরা মানি না। গরু বিক্রি করতে দিতে হবে।”

অন্যদিকে, বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনার বামুনিয়া গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই হিন্দু খামারি। তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে গরু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করলেও এবার নতুন আইনের কারণে গরু বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় হিন্দু খামারিদের দাবি, মুসলমানদের গরু কোরবানি করতে দিলে তারা গরু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : চুনারুঘাট প্রতিনিধি

কমেন্ট বক্স