চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির মুখে পাকিস্তানের সংবেদনশীল সীমান্ত প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় (কেপি) জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভার সুপারিশে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সংবিধানের ২৩৪ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
এর ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতা স্থগিত হয়ে প্রদেশের পূর্ণ নির্বাহী দায়িত্ব কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি অর্থাৎ গভর্নরের হাতে ন্যস্ত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও সংঘাতের কারণসমূহ:
নিরাপত্তা ও সংঘাত: কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, পিটিআই সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও পুলিশকে রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবহার করছিল এবং টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) জঙ্গিদের পুনরুত্থান রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
ক্ষমতা হস্তান্তর: প্রাদেশিক আইনসভার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আধাসামরিক রেঞ্জার্স বাহিনীকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
পিটিআই-এর প্রতিক্রিয়া: এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক, স্বৈরাচারী ও গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট ছিনতাই’ বলে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পিটিআই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় সরাসরি কেন্দ্র হস্তক্ষেপের ফলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।
দৈনিক দুর্বার